‘এই লাশ এক্ষুনি ফেলে দিতে হবে।”
বলেই মাথায় টুপি দেওয়া তিনজন পুরুষ জানাজার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। মিনিট পাঁচেক হলো
মহিলা মারা গেছে। কালো বোরখায় ঢাকা শরীর, পাশ থেকে একজন নেকাব নামিয়ে লাশের মুখটা ঢেকে দিলো।
লাশ সামনে রেখে জানাজার জন্য দাঁড়ানো ভাবলেশহীন তিনজন মানুষ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নাসিরউদ্দিনের দিকে। নাসিরউদ্দিনের এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না তার মা নেই। তাদের অনেক তাড়া। নাসিরউদ্দিনকে নিজের জায়গাতেই উঠে দাঁড়াতে হবে জানাজার জন্য। মায়ের পাশে বসে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছে নাসিরউদ্দিন। তার মা কি সত্যি মারা গেছে নাকি জ্ঞান হারিয়েছে! মাত্র পাঁচ মিনিট আগেও প্রবলভাবে শ্বাস টানছিল তার মা, দুটো বড় খিঁচুনি তুলে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে বুকের ওঠা-নামা, সেটা দেখেই সঙ্গে সঙ্গে একজন ঘোষণা দিলো-
‘মরি গেছে।’
শব্দ দুটো যেন সবাইকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া তিনজনের একজন নিজের মাথার টুপিটা খুলে পরিয়ে দিলো নাসিরউদ্দিনকে। তারপর কাঁধ ধরে টেনে দাঁড় করাল। অনিচ্ছাসত্ত্বেও সে উঠে দাঁড়াল। তার বারবার মনে হচ্ছে সে তার জীবিত মায়ের জানাজা পড়তে যাচ্ছে। তার ইচ্ছে করছে মায়ের বুকে নিজের কান চেপে ধরে একবার পরীক্ষা করে দেখার যে হৃৎপিণ্ডটা আদৌ নড়ছে কি না। কিন্তু তাকে সে সুযোগ না দিয়েই বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের একজনের নাম মোক্তার মাঝি, সে ইমাম হয়ে ‘আল্লাহু আকবার' বলে জানাজার প্রথম তাকবির উচ্চারণ করল। বাকি দুজনসহ আরও দু- একজন মোক্তারকে অনুসরণ করে তাকবির দিয়ে হাত বাঁধছে দেখে নাসিরউদ্দিনও আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধল। তাকবিরের সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল এতক্ষণের কথাবার্তা, গুঞ্জন। মাথার ওপরের অনর্গল ডেকে চলা সিগালগুলোর ডাকও যেন ক্ষণিকের জন্য থেমে গেল। ইঞ্জিনের একঘেয়ে চেনা আওয়াজটা এখন অপরিচিতের...