‘শহর থেকে এত দূরে এই জঙ্গলের মধ্যে আমাকে নিয়ে আসার মতলবটা এখন আমি বুঝতে পারছি।'
‘মতলব বলছ কেন! তোমার কবি তোমাকে প্রকৃতির মধ্যে দেখতে চেয়েছে, দেখতে চেয়েছে তুমি এবং প্রকৃতি কার চেয়ে কে বেশি আদিম।'
“খুব ভালো কথা, কিন্তু সেটা দেখতে গিয়ে কবি নিজেই আদিম হয়ে উঠছে, আর ধীরে ধীরে কবি বর্বর হয়ে উঠছে।'
‘কি যা তা বলছ, আমি তোমার সঙ্গে
বর্বরতা করছি।'
‘হ্যাঁ তাইতো করছ! এই যে তুমি আমার হাত ধরে আছ আমি তোমার স্পর্শের মধ্যে হিংস্রতা টের পাচ্ছি...'
ঘাড় ঘুড়িয়ে জেনিফার কবি অনিন্দ্য আকাশের চোখের গভীরে তির্যক দৃষ্টি নিয়ে তাকায়। জেনিফারের দৃষ্টিটা এখন উত্তর মেরুর হিম আর ঈষৎ ছড়িয়ে পড়া হাসিতে সাহারার লু হাওয়া। কবি অনিন্দ্য আকাশ একই সঙ্গে দুটোর তীব্রতাই টের পাচ্ছে। এতক্ষণ নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে রেখেছিল জেনিফারের হাত, কিন্তু এখন মুঠো আলগা করতে গিয়ে দেখে সেটা বেশ শক্তি দিয়েই চেপে ধরে আছে জেনিফার। অদৃশ্য অপমানের শাস্তিটা তাকে শীতল করে দিচ্ছে।
এই গুমোট অস্বস্তিটা হালকা করার জন্য একটা ফেক হাসি দিয়ে কবি অনিন্দ্য আকাশ বলে—
‘কবির স্পর্শ রূপকথার সেই জীবনকাঠির মতো, যার স্পর্শে জেগে ওঠে নারী ও প্রকৃতি৷”
‘তোমার কথা সত্যি প্রিয় কবি, তবে কবির শরীরের স্পর্শে নয়, কবির কবিতার মধ্যেই জেগে ওঠে নারী ও প্রকৃতি। আমি তোমার হাতের স্পর্শের চেয়ে তোমার কবিতার স্পর্শ বেশি উপভোগ করি...'
ধরা পড়ে গেছে কবি অনিন্দ্য আকাশ, গত এক মাসের শ্রম মেধা আর পরিকল্পনা সব ভেস্তে গেল।
তবে রক্ষা জেনিফার এখন তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে কথা বলছে। যেন দয়া করে এই স্পেসটুকু কবিকে দিয়েছে, যেন সে লুকাতে পারে। আবেগ-অনুভূতি লুকিয়ে রেখে যেভাবে বিচারক মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে ঠিক সেভাবে বহুদূরের দৃষ্টিতে সম্মুখের দিকে তাকিয়ে থেকেই জেনি বলে...