মসজিদ বরাবর সোজা লেকের পশ্চিম প্রান্তের বটগাছটা এখন শৈশব কৈশর পেরিয়ে তারুণ্যে পড়েছে। বটগাছগুলো বহু বছর বাঁচে। কোনো কোনোটি দুই-তিন শতাব্দী। মানুষের প্রাচীন ছাতা। একই বৃক্ষের ছায়ার নিচে বেড়ে ওঠে তিন- চার প্রজন্মের মানুষ। যে শিশু এই বটবৃক্ষের ছায়ার নিচে খেলতে খেলতে বড় হয়, সে-ই একদিন আরেক শিশুর জন্ম দিয়ে ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হয়, তারপর একদিন মরে যায়। বৃক্ষদের ভেতর বটবৃক্ষ সবচেয়ে দুঃখী বৃক্ষ। এই বৃক্ষের জীবন মানুষের মতো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর ডালপালার ভেতর থেকে নেমে আসে ঝুরি, ধীরে ধীরে পরিণত হতে থাকে আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে এর প্রথম মূলটি। দীর্ঘ জীবন মানেই শোকের দীর্ঘ সফর।
উথাল-পাথাল বাতাসে লেকের ধারে এই পড়ন্ত দুপুরে বটগাছের ছায়ার নিচে বসে জীবনে প্রথমবারের মতো যেন বটগাছের দিকে তাকিয়ে আছে ওমার। পাতায় পাতায় লেগে তরুণ গাছটির গা থেকে বৃষ্টির মতো একটা আওয়াজ বের হচ্ছে। ধানমন্ডিতে বড় হয়ে ওঠা ওমারের এই জায়গাটা অনেক প্রিয়। ধানমন্ডি বয়েজে পড়া পুরো স্কুল জীবন কেটেছে এখানে, এরপর ঢাকা কলেজ, সেখান থেকে এখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইকোনোমিক্সে দ্বিতীয় বর্ষ চলছে, আর নিয়মমতোই চলছে তাদের এখানকার আড্ডাটা। বটগাছটার দিকে এত মনোযোগ দিয়ে কখনই তাকায়নি ওমার। ওর বন্ধুরা এখানে আসা শুরু করে সন্ধ্যার পর থেকে, সারা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওরা আসতে থাকে। আড্ডা চলে রাত এগারোটা পর্যন্ত। ইদানীং এদিকটায় নাকি ক্রাইম বেড়ে গেছে। ধানমন্ডি থানার সেকেন্ড অফিসার কাওসার নিয়মিত আসে। এগারোটার দিকে, এসে ওদের আড্ডাটা ভেঙে দিয়ে যায়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তখন উঠে যেতে হয়। পড়ন্ত দুপুরে ইমামের রুম থেকে বের হয়ে হঠাৎ করে ওমারের মনে হলো এই মুহূর্তে এই শহরের কোথাও ওর যাওয়ার জায়গা নেই।
বুকের ভেতর ঝড়ের অস্থির তাণ্ডব অথচ শান্ত দিঘির স্থিরতা নিয়ে বটগাছের নিচে বসে বসে ওমার তার ভাবনাগুলো নিয়ে ভাবছে। এটা কি ফেন্সিডিলের ঘোর! কাশির সিরাপ খেয়ে এমন নেশা হতে পারে ওমার কখনো ভাবতে পারেনি। দ্য উইন্ডো ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট বন্ধু রুশোর কথায় ওর প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। শান্তিনগর কাঁচাবাজারের ভেতরে সাতসকালে ঢুকে সেদিনের প্রথম কাস্টমার ছিল সে আর রুশো। কাশির সিরাপের পরিচিত স্বাদ আর গন্ধ, একটু একটু করে আধা বোতল...
Mehedi Hasan Siam
বইটি বইটির ১ম, ৩টি চরণ পড়েই এটি পড়ার জন্য খুব আগ্রহের জন্ম হয়। দুইটি নিয়েছি একটি বন্ধুকে উপহার দিয়েছি আর একটি নিজের জন্য। বইয়ের পাতা গুলো খুবই ভালো কাগজ ব্যাবহার করা হয়েছে।