অনেক মানুষ আছে এমন, যারা সময়ের গুরুত্বকে অস্বীকার করে না; বরং ভালোভাবেই সময়ের গুরুত্বকে অনুধাবন করে। কিন্তু তাদের বাস্তবিক অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত নিশ্চয় এটা তাদের অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে। ইবনুল কাইয়িম বলেন, ‘অজ্ঞতা দুই ধরনের। ১. হকের ব্যাপারে কোনো ধারণাই না থাকা। ২. ধারণা থাকলেও হকের চাহিদা অনুযায়ী আমল না করা। উভয়টি শাব্দিক, পারিভাষিক, বাস্তবিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে অজ্ঞতা হিসেবেই বিবেচিত।' এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, তোমার মাঝে যেন উভয় প্রকার অজ্ঞতার কোনোটির অস্তিত্ব না থাকে । লেখাটি পড়া শেষে তোমার কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে, এখান থেকে যা কিছু শিখবে, তা বাস্তবে আমলে পরিণত করবে প্রতিটি সময়কে গনিমত মনে করবে এবং দৈনন্দিন রুটিনকে নেক আমল দ্বারা ভরপুর করে তুলবে। যদিও সময় এমন কোনো অর্থ বা বস্তু নয়, যা মানুষ দোকানে বা বাজারে বিনিময় করে থাকে, তবুও সময়কে সবচেয়ে দামি ও গুরুত্বপূর্ণ ধনভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যা দেখা যায় না। অত্যন্ত গোপনীয়। যদি মানুষ এই ধনভান্ডার চোখে দেখত এবং এর মূল্য অনুধাবন করত, তাহলে তা অর্জন করার জন্য পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হতো। এ ছাড়াও স্বয়ং রাসুল – -এর হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝে আসে যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে যতগুলো নিয়ামত দিয়ে থাকেন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো সময়। সময়ের প্রতি এত গুরুত্ব দেওয়া সত্ত্বেও মানুষ এ ব্যাপারে উদাসীন।