| বইয়ের নাম | বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা (হার্ডকভার) |
|---|---|
| ক্যাটাগরি | Articles & Research |
| লেখক | আহমদ ছফা |
| প্রকাশনা | খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | 56 |
| সংস্করণ | 2023 |
| ভাষা | Bangla |
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বলে কথিত সারা পাকিস্তান প্রসারিত বামপন্থী রাজনৈতিক দলটি তখনো দ্বিখণ্ডিত হয়নি। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি এই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটিই ছিল সর্বাধিক দরাজকণ্ঠ এবং সোচ্চার। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের নামকরণ ‘পূর্ব-বাংলা'র স্থলে সরকারিভাবে ‘পূর্ব-পাকিস্তান' ঘোষণা করা হলেও এই দলের অনুসারী তরুণ ছাত্র এবং বুদ্ধিজীবীবৃন্দ আলাপ আলোচনা, সভা সমিতি এমনকি কাগজে পত্রে সরকারি আইন ফাঁকি দিয়ে 'পূর্ব-বাংলা' নামটিই ব্যবহার করত। পাকিস্তান সরকারের হোমরাচোমরা মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি আমলা এবং দক্ষিণপন্থী সমস্ত রাজনৈতিক দল এই সংগঠনটিকে 'ভারতবর্ষের চর', ‘নেহেরু অ্যাডেড পার্টি' এবং 'ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রু' হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে ধিক্কার করতে কুণ্ঠিত হতেন না। এই দলটির ঘোষিত লক্ষ্যের মধ্যে স্বাধীন জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, সমাজতন্ত্র অভিমুখী অর্থনীতি এবং তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন— এই তিনটিই ছিল প্রধান দাবি। অবশ্য পূর্ব-পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি তাঁদের পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে উচ্চারণ করার ক্ষমতা ছিল না। তাই তাঁরা পূর্ব-পাকিস্তানের সঙ্গে পশ্চিম-পাকিস্তানের প্রদেশসমূহেরও স্বায়ত্তশাসন দাবি করতেন। তাঁরা যুক্তি প্রদর্শন করতেন— পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশের আলাদা আর্থিক জীবন, ভাষা এবং সংস্কৃতির বাধাহীন বিকাশের মধ্যেই গোটা পাকিস্তানি জনগণের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের কতিপয় নেতা এবং প্রাগ্রসর রাজনৈতিক দর্শনের অনুরাগী কতিপয় কর্মী তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। পশ্চিম-পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ক্রম-প্রসারমান আমলাতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের কতিপয় নেতার সঙ্গে মিলেমিশে একটি রাজনৈতিক সংগঠন খাড়া করেন ।
কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি
আপনার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও দ্রুত করতে, এই পণ্যটি BDBooks অ্যাপে খুলে দেখুন।