লেখাটা অনেকক্ষণ ধরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল হামিদ। হুমায়ূন আহমেদের অটোগ্রাফ তো আর রোজ রোজ দেখা যায় না। মাত্র দুটো লাইন, তাও অনেকটা কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা, “তুতুনকে অনেক ভালোবাসা। বড় হও। –হুমায়ূন আহমেদ,” এতটুকুই।
বইটা কিছুদিন আগেই নীলক্ষেতের ফুটপাথ থেকে মাত্র বিশ টাকা দিয়ে কিনেছে সে৷ অবশ্য কেনার সময় কায়দা করে আরেকটা বই চুরিও করেছিল, সেটার নাম- বোরকা পরা সেই মেয়েটি। বন্ধুমহলে বেশ নামডাক শুনেছে সে বইটার৷ একটু নাকি ‘ইয়ে’ ধরণের লেখাটেখাও আছে৷ তাই বেছে বেছে বইটাকে মেরে দিয়েছে সে। সেই হিসাবে হুমায়ূন আহমেদের ‘নিশীথিনী' বইটির দাম বিশ টাকার কমই পড়েছে।
পুরনো হয়ে যাওয়া হলুদ কাগজে ফাউন্টেনপেনে লেখাগুলো গাঢ়ভাবে ফুটে রয়েছে। সেই লেখার দিকে তাকিয়ে তুতুন নামের মেয়েটির কথা ভাবতে লাগল হামিদ। কেমন ছিল সেই মেয়েটি? আজ কেমন আছে? কতটা বড় হয়েছে সে? বইটার যে মুদ্রণ সে কিনেছে তার প্রকাশকাল উনিশশো চুরানব্বই সাল। ঊনত্রিশ বছর পার হয়েছে। সেই হিসাবে তুতুন নামের মেয়েটির বয়সের একটা সীমা বের করল হামিদ। পঁয়ত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হবে হয়তো তার বয়স। তবে তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছে মেয়েটার বয়স এখন ঊনচল্লিশ বছর। মনে মনে মেয়েটার একটা প্রতিবিম্বও তৈরি করল সে, সেটা অবশ্য কিশোরী তুতুনের। হাসিখুশি মুখ, মাথার দুই পাশে ঝোলানো বেণী করা চুল, একটা লাল রঙের ফ্রক পরে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে হুমায়ূন আহমেদের সামনে। এই রকম তেরোটি গল্প নিয়ে সাজানো পৃথিবীর সব সুর থেমে গেলে পর গ্রন্থটি লেখকের প্রকাশিত প্রথম বই। পরাবাস্তব ও সায়েন্স ফিকশন বা সাই-ফাই ফ্যান্টাসি জনরার এই গল্পগুলো একটু অদ্ভুত কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে খানিকটা উদ্ভট।