পিতা-ইয়াকুব আলাইহিস সালাম আল্লাহর নবী। বাহ্যদৃষ্টিতে দেখার আগে দেখেন তিনি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে। সাধারণ চোখে যা ধরা পড়ে না, তার চোখে তা-ই ধরা পড়ে। অন্তর্দৃষ্টি অনেকেরই থাকে নবী ছাড়া। কিন্তু নবীদের অন্তর্দৃষ্টি আরও বেশি পাওয়ারি। আরও বেশি লক্ষ্য- ভেদী। ঠিকানামুখী। তার বুঝতে একটুও বেগ পেতে হলো না—এই স্বপ্নের গভীরতা কতোটা অতল, কী সুসংবাদ-ঘেরা।
তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন— ছোট্টো ইউসুফের জন্যে সামনে অপেক্ষা করছে অনেক বড়ো আগামী। সে ভবিষ্যতের নবী, মর্যাদায় সম্মানে এগিয়ে যাবে অনেক দূর। তিনি বুঝলেন—এই এগারো তারকা মানে তার এগারো ভাই। ভবিষ্যতে এরা সবাই ইউসুফের কাছে ‘নত’ হবে। সসম্মানে সিজদাবনত হবে। শুধু তা-ই নয়, এই সম্মান প্রদর্শন- সিজদায় তিনি নিজেও ‘স্ত্রী-সহ' সঙ্গে থাকবেন। এ-স্বপ্ন—রাজক্ষমতা লাভের ইঙ্গিত। জমিনে সুপ্রতিষ্ঠা লাভের
আসমানী হাতছানি। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ-স্বপ্ন বলে দিচ্ছে— নবুওতের উত্তরাধিকার তার বারো ছেলের ভেতরে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে শুধু ছোট্টো ইউসুফের দিকে। না, অন্য কারও দিকে নয় ।
রহস্য কী?
রহস্য আর কিছুই নয়, প্রিয় ইউসুফের ভেতরে সমন্বয় ঘটেছে বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্যের এবং আত্মিক রূপ-ঝলকের । বাহ্যিক সৌন্দর্যের তিনি যেনো জোছনা-ঝলমলে এক রুপোলি চাঁদ। তার বাহ্যিক অবয়ব থেকে ঝরে ঝরে পড়ে সেই রুপোলি চাঁদের রূপ-জোছনার বিগলিত রূপ-শোভা। দৃষ্টিকাড়া। মনকাড়া। মুগ্ধতাকাড়া। হবেই তো এমন তিনি পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্যের মালিক-যে একাই!